স্ত্রীর অধিকার/ স্ত্রীর হক, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ১৭টি দায়িত্ব
সফর-৩, ১৪৪৫ হিজরী। ১/৯/২০২৩ ইং
স্ত্রীর অধিকার/ স্ত্রীর হক, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ১৭টি দায়িত্ব
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ
وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
মুমিনগণ, তোমরা
নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজ নকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, [সুরা তাহরীম - :৬]
ভুমিকা: আল্লাহর হক হল কলমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এসব আর বান্দার হকের মধ্যে প্রত্যেক মানুষের আলাদা আলাদা হক ইসলাম বয়ান করেছেন, যেমন মা বাবার হক, সন্তানের হক, দাস দাসি কর্মচারির হক, স্বামীর অধিকার, ভাই বোনের অধিকার, প্রতিবেশীর হক ইত্যাদি। আজকে স্ত্রীর হক কি স্ত্রীর অধিকার কি স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কি সে রকম ১৭টি অধিকার সম্পূর্ণ কোরআন ও হাদীস থেকে আপনাদের সামনে তুলে ধরব ইনশা আল্লাহ।
১) হুসনু মুয়াশারা: বা স্ত্রীর সাথে সৎভাবে বসবাস করা- স্ত্রীর সাথে ভালোভাবে বসবাস করা এটা আপনার কাছে স্ত্রীর পাওনা। আল্লাহ তায়ালা সুরা নিসার ১৯ নং আয়াতে এরশাদ করেন।
وَعَاشِرُوهُنَّ
بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَن تَكْرَهُواْ
شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيراً
স্ত্রীদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে জীবনযাপন কর।অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন। (সুরা নিসা-১৯)
স্ত্রীর কাছে ভালো হওয়ার ফজিলত:
আপনি উত্তম মানুষ কিনা তা প্রমাণ হবে যদি আপনি আপনার স্ত্রীর নিকট উত্তম হয়ে থাকেন। যেমন
হাদিস: তিরমিজির
৩৮৯৫ হাদিসের বননা
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِي
তোমাদের মাঝে সে-ই ভাল যে তার পরিবারের নিকট ভাল। আর আমি আমার পরিবারের নিকট
তোমাদের চাইতে উত্তম।
#এক নং স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করা ভালো আচরন করা এটা আপনার কাছে স্ত্রীর
পাওনা।
২) স্ত্রীকে দ্বীন শিক্ষা দেয়া ও স্ত্রীকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো:
বর্তমানে প্রত্যেক ঘরে অশান্তির সবচেয়ে বড় কারন হল দ্বীনী শিক্ষার অভাব, অনেক
পুরুষ দ্বীন জানে কিন্তু স্ত্রী দ্বীন জানেনা, এখন স্ত্রী দ্বীন না জানার কারনে সে
বেদ্বীনের মত কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক, আমরা স্ত্রীদেরকে দ্বীন না শিখিয়ে স্ত্রী
যদি ভুল করে তখন তাকে বকাঝকা করি। তারপর পুরুষ মসজিদে আসে ওয়াক্ত মত নামাজের জন্য
নারীরা নামাজ পড়েছে কিনা তার খবর রাখেনা।
অথচ আল্লাহ তায়ালা সুরা তাহরিমের ৬ নং আয়াতে এরশাদ করেন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ
وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
মুমিনগণ, তোমরা
নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজ নকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, [সুরা তাহরীম - :৬]
রান্না করতে গিয়ে নামাজে দেরী হচ্ছে দেখলে
স্ত্রীকে বলা রান্না ছাড় তাড়াতাড়ি নামাজটি পড় এটা আপনার স্ত্রী আপনার কাছে পাওনা।
স্ত্রীকে রাতে কিভাবে ডাকবেন?
স্ত্রীকে ৫ ওয়াক্তে ৫ বার নামাজের জন্য ডাকবেন, নামাজের জন্য নিজেও যেমন কাপন্য করবেন না স্ত্রীকেও নামাজে অবহেলা
করতে দিবেন না। এমনটি রাতেও স্ত্রীকে তাহাজ্জুদে ডাকবেন
যেমন
আবু দাউদ এর ১৩০৮ নং হাদিস
" رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ
اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا
الْمَاءَ،
আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন যে রাতে সজাগ হয়ে নিজে সালাত আদায় করে এবং
তার স্ত্রীকেও সজাগ করে। স্ত্রী উঠতে না চাইলে সে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটায়।
এখন আপনি যদি নিজেও রাতে উঠেন ২/৪ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার পর স্ত্রীকে ডাকেন আর
স্ত্রী যদি ঘুম থেকে না উঠে তার মুখে সামান্য পানির ছিটা দিয়ে ডাকেন তখন আল্লাহ
তায়ালা আপনার উপর রহমত নাজিল করবেন।
আর একই কাজ যদি স্ত্রীরা করেন স্ত্রী আগে উঠেন আর স্বামীকে নামাজের জন্য ডাকে যদি স্বামী না উঠে তার মুখে সামান্য পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে আল্লাহ তায়ালা সে নারীর উপর রহমত নাজিল করেন। (আবু দাউদ ১৩০৮)
# দুই নং তাহলে স্ত্রীকে ভালো কাজ করানো নেক আমল করানো এটা স্ত্রীর আপনার কাছে পাওনা
৩) ভুল হলে ক্ষমা করা- স্ত্রীর দ্বীনের ভুল হলে তা ধরিয়ে দিবেন, আর কাজের মধ্যে কোন ভুল হলে তার জন্য বকাঝকা করা ঠিক না, প্রতিদিন গ্লাস থালা বাসন ধৌত করে একদিন একটা গ্লাস হাত থেকে পরে ভেঙ্গ গেছে আর আপনি গালমন্দ করা আরম্ভ করে দিলেন এটা খুবই অন্যায়। প্রতিদিন রান্না করে স্বাদ হয় একদিন হয়নি তার জন্য রাগারাগি করা, প্রতিদিন কাপড় ধৌত করে একদিন পরিস্কার কম হয়েছে এসব কারনে অনেক স্বামী স্ত্রীর উপর যুলুম করে। অথচ আমাদের উচিত সে যে অন্যান্য ভালো কাজ করে সুন্দর কাজ করে সেগুলির দিকে তাকিয়ে ভুলগুলিকে ক্ষমা করা যেমন
হাদিস: মুসলিম শরিফের ৩৫৪০ নং হাদিস
" لاَ يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ
كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ"
কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; (কেননা) তার কোন চরিত্র অভ্যাসকে অপছন্দ করলে তার অন্য কোন
(চরিত্র-অভ্যাস) টি সে পছন্দ করবে।
# তিন নং অধিকার হল স্ত্রীর গুনগুলি দেখে কিছু কিছু দোষ ক্ষমা করা
৪) চেহেরায় মারা যাবেনা গালাগালি করা যাবেনা
অনেকে স্ত্রীকে মা বাবা ও ১৪ গোষ্টি নিয়ে গালাগালি করে এটা নিষেধ যেমন
হাদিস: আবু দাউদ এর ২১৪২ নং হাদিস
وَلَا
تَضْرِبِ الْوَجْهَ، وَلَا تُقَبِّحْ،
তার মুখমন্ডলে মারবে না, তাকে
গালমন্দ করবে না
মুখমন্ডল ছাড়া
অন্য স্থানে মারা কি যাবে?
অন্য স্থানেও মারবেন না বরং নসিহত করবেন আপনার স্ত্রী সারাক্ষণ টিবি দেখে, মোবাইল নিয়ে বসে থাকে তাদেরকে না মেরে ওয়াজ করবেন যেমন
হাদিস - বুখারী
শরীফের ৩৩৩১ নং হাদিস
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ
اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَوْصُوْا
بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ
خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ فَإِنْ
ذَهَبْتَ تُقِيْمُهُ كَسَرْتَهُ وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ
فَاسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নারীদেরকে উত্তম নাসীহাত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের
হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি বেশী বাঁকা।
তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে যাবে আর যদি
ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদেরকে
নাসীহাত করতে থাক।
নামাজ পড়, কোরআন পড়, টিভি দেখিওনা, অন্তত নামাজটা পড়, সকালে নামাজের জন্য ডেকে দিবেন, নিজেও কুরআন পড়বেন স্ত্রীকেও পড়তে বলবেন না জানলে পড়া শিখাবেন এভাবে শুধু নসিহত করতে থাকবেন।
স্ত্রীকে যারা মারধর করে তাদেরকে নবীর ধিক্কার
যারা স্ত্রীকে গরু ছাড়লের মত গোলামের মত মারধর করে, তাদেরকে দয়াল নবী ধিক্কার দিয়ে বলেন যেমন
হাদিস: বুখারী শরিফের ৫২০৪ নং হাদিস
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَمْعَةَ عَنْ النَّبِيِّ
صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ امْرَأَتَه“ جَلْدَ الْعَبْدِ
ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ
আবদুল্লাহ্ ইবনু যাম’আহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউ নিজ স্ত্রীদেরকে গোলামের মত প্রহার করো না। কেননা, দিনের শেষে তার সঙ্গে তো (একই বিছানায়) মিলিত হবে। (তোমাদের লজ্জা করেনা)
*** বিয়ের পরপর অনেক স্বামী স্ত্রীকে আইফোন গিফট করে, ঘরে আগে ওয়াইফাই ছিল না বিয়ের পর ওয়াইফাই আনে, বিবি বাপের বাড়ীতে ফেসবুক চালাতে পারতনা এখন স্বামী স্ত্রীকে আদর যত্নে ফেসবুক চালানো শিখায়, আর কিছুদিন পর শুরু হয় অশান্তি। অথচ আল্লাহ নবী বলছেন বিবিকে দ্বীন শিক্ষা দাও তাদেরকে ওয়াজ কর।
# সুতরাং চারনং অধিকার স্ত্রীকে মারধর না করা, সব সময় নসিহত করতে থাকা, গালাগালি না করা ।
৫) স্ত্রীর সাথে ভালো কথা বলা গল্প করা:
মাঝে মধ্যে স্ত্রীর সাথে ঘরের সবাইকে নিয়ে ঘরোয়া মিটিং করা, ভালো ভালো কথা
বলা, কিংবা গল্প বলা শিক্ষনীয় গল্প বলা সুন্নত। এমন অনেক স্বামী আছে বিগত ১০ বছর
স্ত্রীর সাথে বাজারের লিস্ট বাজারের হিসাব ছাড়া আর কোন কথাই বলেন নাই। অথচ স্ত্রীর
সাথে ভালো কথা বলা এটা স্ত্রীর অধিকার যেমন
হাদিস: বুখারীর ৫১৮৯ নং হাদিস আয়শা (রা) বলেন একরাতে নবী করিম (দ) আমাকে অতিতকালের ১১জন স্ত্রীর গল্প বললেন- যে ১১ জন স্ত্রী একমত হল তারা তাদের স্বামীর কোন কথা গোপন রাখবেনা তারা প্রত্যেকে নিজেদের স্বামীর ব্যপারে বলতে লাগল হাদীসটি অনেক বড় প্রত্যেক স্ত্রীরা তাদের স্বামীর ব্যপারে কি কি বলেছেন নবী করিম (দ) আয়শা (রা) সে গল্প বলতে লাগলেন
প্রথম ১০ জন তাদের স্বামীর কাহিনি বলার পর ১১ তম মহিলা বলল আমার স্বামী অনেক
ভালো, আমি খুব গরিব ঘরের মেয়ে ছিলাম, আমার স্বামী আমাকে রানির মত করে রেখেছে, আমার
স্বামী অনেক ধনী ছিল, তার ঘরে অনেক চাকর চাকরানি, তারা আমাদের ব্যপারে কোন কথা
বাহিরে গিয়ে বলতনা, আমি সকালে অনেক দেরী করে ঘুম থেকে উঠতাম, আমার স্বামী আমাকে এত
পরিমান গহনা দিয়েছে তা আমার বহন করাও কষ্টকর ছিল, কিন্তু দুঃখজনক হল আমার এত ভালো
স্বামীটা একদিন আমাকে তালাক দিয়ে দিল।
এরপর আমার ভিন্ন জায়গায় বিয়ে হল কিন্তু আমার পূর্বের স্বামীর তুলনায় ২য় স্বামী
কিছুই না।
# পাঁচ নং অধিকার হল স্ত্রীকে মাঝে মধ্যে শিক্ষনীয় গল্প বলা সুন্নত।
৬) স্ত্রীর থেকে আলাদা না থাকা
বিশেষ করে রাতে স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকা যাবেনা, স্ত্রীকে আলাদা রাখাটা হল শাস্তি
স্ত্রী কে আলাদা রাখা এটা শাস্তি
অনেক সময় স্ত্রী যদি বেশী অবাধ্যতা করে তখন তাকে প্রথম কাজ হল ওয়াজ করা তাতে কাজ
না হলে আল্লাহ তায়ালা বলেন বিছানা আলাদা করে দাও
সুরা নিসার ৩৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন
وَاللاَّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ
وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ
আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর [সুরা নিসা - ৪:৩৪]
স্ত্রীর বিছানা কিভাবে আলাদা করবেন?
(১) একই বিছানায় তবে মুখ ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে ঘুমাবেন
(২) একই রুমে স্ত্রী বিছানায় আপনি সোফায়
(৩) একই ঘরে স্ত্রী এক রুমে আপনি ভিন্ন রুমে
তবে এই শাস্তি যেন ঘরের অন্যরা না বুঝে।
নবীজির ২৯ দিনের আলাদা থাকার শপথ
বুখারী শরীফের ৫২০২ নং হাদিস উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ গ্রহণ করলেন যে,
এক মাসের মধ্যে তাঁর কতিপয় স্ত্রীর নিকট তিনি গমন করবেন না। কিন্তু
যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন তিনি সকালে কিংবা বিকালে তাঁদের কাছে গেলেন। কোন
একজন তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি শপথ করেছেন এক
মাসের মধ্যে কোন স্ত্রীর কাছে যাবেন না। তিনি বললেন,
إِنَّ
الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعَةً وَعِشْرِينَ يَوْمًا.
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়।
স্বামী স্ত্রীর থেকে পৃথক কতদিন থাকতে পারবে?
হযরত ওমর (রা) আইন করেছেন কোন যোদ্ধা স্ত্রীর থেকে ৪ মাসের অধিক থাকতে
পারবেনা, সুতরাং যারা বিদেশে যান তারা বিবির কাছ থেকে অনুমতি নিবেন সে যদি খুশি
মনে ১ বছর বা ২ বছর দেশের বাহিরে থাকার অনুমতি দেয় তাহলে বৈধ অন্যথায় নয়।
# ছয়নং হক হল স্ত্রীর সাথে একসাথে থাকা, স্ত্রীকে আলাদা
রাখা এটা মুলত স্ত্রীকে শাস্তি দেয়ার শামিল।
৭) স্বামী হিসেবে স্ত্রীর সামনে পরিপাটি হয়ে থাকা এটা স্ত্রীর অধিকার
আমরা সকলে চাই আমাদের স্ত্রী যেন পরিপাটি হয়ে থাকুক তেমনি স্ত্রীরাও চায় তাদের
স্বামী সুন্দর করে পরিপাঠি হয়ে থাকুক, যেমন
হাদিস: বাইহাকি শরীফের ১৪৭২৮ নং হাদিস
أُحِبُّ أَنْ أَتَزَيَّنَ لِلْمَرْأَةِ، كَمَا أُحِبُّ أَنْ
تَتَزَيَّنَ لِي الْمَرْأَةُ،
নবীজি বলেন আমি যেমন চাই আমার বিবি আমার জন্য পরিপাটি হয়ে থাক, আমি নবিও আমার বিবির জন্য পরিপাটি হয়ে থাকা পছন্দ করি।
তাহলে স্বামী হিসেবে স্ত্রীর সামনে সুন্দর হয়ে থাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকা, এটা নবীজির সুন্নত। এবং এটাও স্ত্রীর একটি
অধিকার। সুতরাং যারা ঘরের মধ্যে সব সময় এলোমেলো থাকেন তারা স্ত্রীর এই
হককে নষ্ট করছেন।
৮) বিয়ের পর সারা রাত এবাদত সারাদিন রোজা না রাখা
যদি সারা রাত এবাদত করেন তাহলে স্ত্রীর হক কিভাবে আদায় করবেন? এরকম একটি ঘটনা নবীর (দ) যুগে এক সাহাবি ঘটিয়েছেন যেমন
হাদিস: বুখারীর ১৯৭৭ নং হাদিস এর বর্ণনা হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা) এর ব্যপারে নবী করিম (দ) এর কাছে সংবাদ পৌঁছে যে তিনি রাতভর নামাজ পড়েন এবং একটানা রোজা রাখেন, তখন নবীজি তাকে খবর দিয়ে ডেকে আনলেন আর ফরমালেন
فَصُمْ
وَأَفْطِرْ وَقُمْ وَنَمْ فَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَظًّا وَإِنَّ لِنَفْسِكَ
وَأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَظًّا
তুমি সওম পালন কর এবং মাঝে মাঝে তা ছেড়েও দাও। রাতে সালাত আদায় কর এবং নিদ্রাও
যাও। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে এবং তোমার নিজের শরীরের ও তোমার
পরিবারের হক তোমার উপর আছে।
# তাহলে রাতদিন এবাদত করা লাগাতার রোজা রাখা এটার নাম ইসলাম নয়, ইসলাম হল সব কিছুর হক যথাযথভাবে আদায় করা
৯) স্ত্রীকে বৈধ হালাল বিনোদন দেয়া
স্ত্রীকে মাঝে মধ্যে আনন্দ দেয়া স্ত্রীর সাথে হালাল বিনোদন করা এটাও সুন্নত
এবং স্ত্রির অধিকার যেমন
হাদিস: বুখারী শরীফের ৫১৯০ নং হাদিসের বর্ণনা
عَنْ
عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ الْحَبَشُ يَلْعَبُونَ بِحِرَابِهِمْ
فَسَتَرَنِي رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَنْظُرُ فَمَا زِلْتُ
أَنْظُرُ حَتّٰى كُنْتُ أَنَا أَنْصَرِفُ فَاقْدُرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ
الْحَدِيثَةِ السِّنِّ تَسْمَعُ اللَّهْوَ.
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন
হাবশীরা তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম আমাকে নিয়ে পর্দা করে তার পেছনে দাঁড় করিয়ে ছিলেন এবং আমি সেই খেলা
দেখছিলাম। যতক্ষণ আমার ভাল লাগছিল ততক্ষণ আমি দেখছিলাম। এরপর আমি স্বেচ্ছায় সে
স্থান ত্যাগ করলাম। সুতরাং তোমরা অনুমান করতে পার কোন্ বয়সের মেয়েরা আমোদ-প্রমোদ
পছন্দ করে।
হাদিস: আবু দাউদের ২৫৭৮ নং হাদিস
عَنْ
عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ قَالَتْ: فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى
رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: هَذِهِ
بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
’আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড়
প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে
আবারো দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে
দিলেন বিজয়ী হলেন। তিনি বলেনঃ এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা
১০) স্ত্রীর প্রতি সুধারনা রাখা
সুরা নুরের ১২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন
لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ
وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ
তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি
এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ? [সুরা
নুর - ২৪:১২]
হাদিস: আবু
দাউদের ৪৯৯৩ নং হাদিসের বর্ণনা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَصْرٌ - عَنْ
رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: حُسْنُ الظَّنِّ مِنْ حُسْنِ الْعِبَادَةِ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম ধারণা পোষণা উত্তম ইবাদাতের
অন্তর্ভুক্ত
***ইমাম শাফেয়ী (রহ) বলেন যদি কোন
মানুষ অন্য মানুষের প্রতি ভালো ধারনা রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাহলে সে মরনের সময় আল্লাহ তায়ালা তার জবানে কলমা জারি করে দেন। সুবহানাল্লাহ
#স্ত্রীর প্রতি সুধারনা রাখলে মনের মধ্যে সন্দেহ বাসা বাঁধবেনা, কুধারনার কারনে অনেক ঘরে অশান্তি হয়, সারাক্ষণ বউ এর দোষ তালাশ করে বউ এর পিছনে গোয়েন্দাগীরি করে। এই সন্দেহ রোগের কারনে অনেক সংসারে চলে সীমাহীন যন্ত্রনা।
১১) বিবির গোপন কথা অন্যের কাছে প্রকাশ না করা
স্ত্রীর গোপন কথা বন্ধুদের না বলা, এটা
অন্যায়। এ ধরনের একটি ঘটনা নবীর জামানায় ঘটে গেছে।
আবু দাউদের ২১৭৪ নং হাদিস – যার সারসংক্ষেপ হল
একদিন নবী করিম (দ) নামাজের পর সাহাবীদের দিকে মুখ করে বললেন তোমাদের মাঝে এমন কেহ কি আছ যে স্ত্রীর
সাথে কি হয়েছে সব কথা তার সাথীদের কাছে বলে বেড়াও? তখন সকলে চুপ
হয়ে গেল, এবার নারীদের প্রতি লক্ষ করে নবীজি বললেন তোমাদের মাঝে
এমন কেহ আছ কি যে স্বামীর সাথে কি হয়েছে সব তোমাদের নারী বান্দবীদের কাছে বলে বেড়াও?
তখন একজন নারী ঘাড় উঁচু করে বলেন এয়া রাসুলাল্লাহ আপনি যা বলেছেন তা
ঘটে,
তখন নবীজি ফরমালেন
هَلْ تَدْرُونَ مَا مَثَلُ ذَلِكَ؟ فَقَالَ:
إِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ مَثَلُ شَيْطَانَةٍ، لَقِيَتْ شَيْطَانًا فِي السِّكَّةِ
فَقَضَى مِنْهَا حَاجَتَهُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ،
তোমরা কি জানো, এদের উদাহরণ কি? তিনি
বললেনঃ এদের উদাহরণ হচ্ছে, এমন এক শয়তানের যে স্ত্রী শয়তানের
কাছে গিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের যৌনক্ষুধা মিটালো, এই দৃশ্য
লোকেরা স্বচক্ষে দেখলো। (নাউজুবিল্লাহ)
হাদিস: মুসলিম শরীফের ১৪৩৭ নং হাদিস
" إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ
اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ
وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا "
আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযীঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের
দিন সে ব্যক্তি হবে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম পর্যায়ের, যে
তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সাথে মিলিত হয়, অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।
# তাহলে আমরা যদি স্ত্রীর গোপন বিষয় বন্ধুদের কাছে বলে বেড়াই তাহলে কিয়ামতের
দিন আমরা নিকৃষ্ট লোক হিসেবে উত্থিত হব নাউজুবিল্লাহ।
১২) স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা এটা নবীর সুন্নত
মুসলিম শরীফের ৬১৭২ নং হাদিস :
’আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাদীজাহ্ ব্যতীত নবী সহধর্মিণীদের আর কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হইনি,
অথচ আমার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেনি। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বকরী যাবাহ করতেন তখন বলতেন, এর মাংস খাদীজার বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও। একদা আমি তাকে রাগিয়ে দিলাম এবং
বললাম, খাদীজাহকে এতই ভালবাসেন?
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
" إِنِّي قَدْ رُزِقْتُ حُبَّهَا " .
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ তার ভালবাসা আমার মনে
জায়গা করে নিয়েছে। (আল্লাহ তায়ালা খাদিজার প্রতি ভালাবাসা আমার অন্তরে গেঁথে
দিয়েছেন) সুবহানাল্লাহ
#তাহলে বিবিকে ভালোবাসে নবী (দ) নিজ মুখ দিয়ে বলেছেন। এটা লজ্জার না। এটাই ইসলাম। এটা স্ত্রীর পাওনা।
আয়শার প্রতি নবীর ভালোবাসা প্রকাশ
এখন বুখারী শরীফের ৩৭৭০ নং হাদিস বলব এই হাদিসটি শুনার আগে আরো ১টি সুন্নত জানাব
তা হল রুটি নিবেন আর সে রুটিকে ছোট ছোট করে ছিরবেন আর তা গোস্তের ঝোলের মধ্যে ভিজাবেন
তারপর তা খাবেন এই খাদ্যটা নবীজি খুব পছন্দ করতেন, এ খাদ্যের নাম হল সারিদ আপনিও এভাবে একদিন খাবেন নবীজির সুন্নত
পালনের নিয়তে।
হাদিস: বুখারী শরীফের ৩৭৭০ নং হাদিস
عَنْ
عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ
يَقُوْلُ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ فَضْلُ عَائِشَةَ
عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيْدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে
শুনেছি, নবীজি বলেন (সমস্ত খাবারের মধ্যে সারিদ যেমন আমার পছন্দ তেমনি সমস্ত নারিদের মধ্যে আয়শার
মর্যাদা আমার কাছে তেমন।)
# তাহলে ১২ নম্বর অধিকার হল স্ত্রীকে মাঝে মাঝে ভালোবাসার কথা বলা। তার প্রতি মুখে ভালোবাসা প্রকাশ করা
১৩)কাজ কর্মের মাধ্যমে বিবির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা
নাসাই শরীফের ৩৮০ নং হাদিস
عَنْعَائِشَةَ،
قالت: كُنْتُ أَشْرَبُ مِنَ الْقَدَحِ وَأَنَا حَائِضٌ فَأُنَاوِلُهُ
النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ
فِيَّ فَيَشْرَبُ مِنْهُ، وَأَتَعَرَّقُ مِنَ الْعَرْقِ وَأَنَا حَائِضٌ
فَأُنَاوِلَهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى
مَوْضِعِ فِيَّ
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পানপাত্র থেকে পান করতাম তখন আমি ছিলাম ঋতুমতী। তারপর আমি তা নবী
(সা.) -এর নিকট প্রদান করতাম, তিনি আমার মুখের স্থানে তার
মুখ রেখে পান করতেন এবং ঋতুমতী অবস্থায় আমি মাংসযুক্ত হাড় হতে মাংস খেতাম আর তা
নবী (সা.) -এর হাতে প্রদান করতাম, তিনি আমার মুখ রাখার
স্থানে নিজের মুখ রাখতেন।
১৪) স্ত্রীকে সুন্দর নামে ডাকাও সুন্নত
যেমন নবী করিম (দ) হযরত আয়শা (রা) কে আদর করে হুমায়রা বলে ডাকতেন যার অথ হল
লাল পরি। লাল সুন্দরী।
হাদিস: দারে কুতনির ৮২ নং হাদিস
عَنْ
عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ -
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَقَدْ سَخَّنْتُ مَاءً فِي الشَّمْسِ ،
فَقَالَ : " لَا تَفْعَلِي يَا حُمَيْرَاءُ فَإِنَّهُ يُورِثُ الْبَرَصَ "
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন,
তখন আমি সূর্যের তাপে পানি গরম করছিলাম। তিনি বললেন, হে হুমায়রা!
তা করো না। কারণ তাতে শ্বেতরোগের সৃষ্টি হয়।
#স্ত্রীকে একটা নাম দিবেন যে নামে শুধু আপনি ডাকবেন।
১৫) ঘরের কাজে মাঝে মাঝে স্ত্রীকে সহযোগিতা করা
হাদিস: মুসনদে আহমদের ২৬১৯৪ নং হাদিস- আয়শা (রা) বলেন সাহাবীরা আমাকে প্রশ্ন
করলেন নবীজি ঘরের মধ্যে কি কি কাজ করেন? আমি জবাব দিলাম জুতা ছিড়ে গেলে আল্লাহর
নবী নিজে সেলাই করতেন, নবীর জামা ছিড়ে গেলে তা তিনি নিজে সেলাই করতেন। বকরীর দুধ
নিজে দোহন করতেন। ঘরে স্ত্রীদের কাজে সহযোগিতা করতেন।
যদি আমরাও নবীজির মত মাঝে মাঝে স্ত্রীদের কাজে সহযোগিতা করি তাহলে অবশ্যিই
ঘরের মধ্যে সুন্দর পরিবেশ সুখময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ঘর বরকতময় হবে। জীবন সুখময়
হবে।
১৬) স্ত্রীর খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান সুনিশ্চিত করা।
১৭) স্ত্রীর মোহরানা মহরে মুআজ্জাল স্ত্রীকে দিয়ে দেয়া।
মহর আদায় করেননি স্ত্রী বা স্বামী মারা গেল তখন কি করবেন?
স্ত্রীর মহরানার টাকা আপনি স্ত্রীর সম্পত্তিতে যোগ করে দিবেন যেমন আপনার স্ত্রীর সম্পদ আছে ৫ লাখ টাকা আপনার কাছে পাবে ৫ লাখ টাকা মহরানা হিসেবে তখন আপনি উক্ত মহরানার ৫ লাখ টাকা স্ত্রীর মালিকানায় যে ৫ লাখ তার সাথে যোগ করবেন আর মোট ১০ লাখ যেটা হবে সেটা ওয়ারিশী সম্পত্তি হিসেবে বন্টন হবে।
আর
স্ত্রীর
সে
সম্পত্তিতে
ওয়ারিশ
হিসেবে
স্বামীও
কিছু
পাবেন।
তেমনি যদি স্বামী আগে মারা যায় তাহলে স্বামীর সম্পত্তি হতে স্তীর মহর স্ত্রীকে দিয়ে দিতে হবে, এরপর বাকী যে সম্পত্তি থাকবে সেটা ওয়ারিশগন তরকা হিসেবে পাবে।
আর
সে
তরকা
থেকেও
স্ত্রী
হিসেবে
যতটুকু
তরকা
পাওয়ার
তাও
পাবেন।
উপসংহার:
স্ত্রীর পাওনা বা অধিকার হল
১) স্ত্রীর সাথে সদ্ভাবে বসবাস করা
২) স্ত্রীকে দ্বীন শিক্ষা দেয়া ও স্ত্রীকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো
৩)
ঘরোয়া
কাজকমে
কোন
ভুল
হলে
ক্ষমা
করা
৪) মরধর না করা গালাগালি না করা
৫) স্ত্রীকে ভালো বা শিক্ষনীয় গল্প করা
৬) স্ত্রীর থেকে বিনা কারনে আলাদা না থাকা ওজর ছাড়া স্ত্রীর বিছানা আলাদা না করা
৭) স্ত্রীর জন্য পরিপাটি হয়ে থাকা
৮) সারারাত এবাদত ও লাগাতার রোজা না রাখা
৯)
স্ত্রীকে
বৈধ
হালাল
বিনোদন
দেয়া
১০) স্ত্রীর প্রতি সুধারনা রাখা সন্দেহ না করা
১১) বিবির গোপন কথা বন্ধুদের কাছে প্রকাশ না করা
১২) মুখে বিবির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা
১৩) কাজে কর্মে বিবির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা
১৪) স্ত্রীকে সুন্দর নামে ডাকা
১৫) ঘরের কাজে মাঝে মধ্যে বিবিকে সাহায্য করা
১৬) বিবির খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান এর ব্যবস্থা করা
১৭) স্ত্রীর হক মহর আদায় করা
এই পাওনাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় পাওনা হল নিজের বিবিকে যদি আমি ভালোবাসেন তাহলে
আপনি তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবেন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ
وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
মুমিনগণ, তোমরা
নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, [সুরা তাহরীম - :৬]
মাওলানা এস এম নিজাম উদ্দীন
খতিব, হাজি অলি মিয়া সওদাগর জামে মসজিদ
পূর্ব ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
কোন মন্তব্য নেই